Monday, 24 July 2017
ইভেন্ট হেডলাইন
×

Warning

Error loading component: com_languages, Component not found.

একুশে গ্রন্থমেলা ও বিশ্ব সাহিত্য সম্মেলনের উদ্বোধন

0
0
0
s2smodern
powered by social2s

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গন ও সোহরাওয়ার্দী প্রাঙ্গনে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হলো মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলা। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গনে ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিভাবে মাসব্যাপী অমর একুশের গ্রন্থ মেলার উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনী বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে দূরে থাকতে সাহিত্য চর্চা ও বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে সবার প্রতি আহ্বান জানান। এসময় তিনি এও বলেন, শুধু আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে নয়, সাহিত্য-সংস্কৃতিতেও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, বাঙালীর যত অর্জন তার সবই হয়েছে রক্তের বিনিময়ে। একুশের বই মেলা এখন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পেয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী নিজের বই পড়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।বাংলাদেশ আজ বিশ্ব দরবারে আত্ম-মর্যাদার আসন পেয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এ অবস্থা ধরে রাখতে কাজ করার জন্য সবার প্রতি আহবান জানান।

মাসব্যাপী বইমেলার পাশাপাশি চারদিন ব্যাপী বিশ্ব সাহিত্য সম্মেলনেরও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দেশী-বিদেশী কবি সাহিত্যিকরা। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পরিবেশন কর হয় একুশের গান। অনুষ্ঠান উপলক্ষে আমন্ত্রিত দেশী বিদেশী সাহিত্যিকদের আলোচনার পর বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধন শেষে কয়েকটি স্টল ঘুরেও দেখেন তিনি।

অনুষ্ঠানে এর আগে বিজয়ীদর হাতে ‘বাংলা একাডেমী সাহিত্য’ পুরুস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এবছর এই পুরুস্কার যারা পেলেন তারা হলেন--কবিতায় -আবু হাসান শাহারিয়ার, সাহিত্যে - শহীদুজ্জামান, প্রবন্ধ সাহিত্যে - মোরশেদ সফিউল হাসান, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সাহিত্যে- ডক্টর এম হাসান, আত্মজীবনী ও স্মৃতি কথায় - নুরজাহান ঘোষ, শিশু সাহিত্যে-রাশেদ রউফ ও অনুবাদে নিয়াজ জামান।

বাংলাদেশের সাহিত্যাঙ্গনে 'বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার' সবচেয়ে সম্মানজনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৬০ সাল থেকে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে বাংলা একাডেমি।কবিতা, কথা সাহিত্য, অনুবাদ ও গবেষণাসহ ২০১৬ সালে সাতটি ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার দেয়া হয়।

কিন্তু নাটক এবং বিজ্ঞান বিষয়ক লেখালেখির ক্ষেত্রে কাউকে পুরস্কার দেয়া হয়নি। বাংলা একাডেমি বলছে এ দু'টি ক্ষেত্রে পুরস্কার দেবার জন্য যথেষ্ট মানসম্মত লেখা পাওয়া যায়নি।

গত ১০ বছর ধরেই বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে নাটকের ক্ষেত্রে পুরস্কার প্রদানের বিষয়টি অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। যদিও ২০১৫ সালে একজনকে সে ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেয়া হয়েছে।

নাটকের ক্ষেত্রে কোন পুরস্কার না দেয়ায় এ নিয়ে স্বভাবতই হতাশ এবং ক্ষুব্ধ নাট্যজগতের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। কিন্তু নাটকের ক্ষেত্রে পুরস্কার পাওয়ার মতো কাজ না থাকার যে যুক্তি দেখানো হচ্ছে সেটি কতটা গ্রহণযোগ্য?

বাংলাদেশের একজন সুপরিচিত নাট্য ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশিদ মনে করেন নাটকের প্রতি অবহেলার কারণেই বাংলা একাডেমির পুরস্কারে নাটক বিষয়টি অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। মামুনুর রশিদ বলেন, "নাটকের ক্ষেত্রে পুরস্কার দেবার মতো লোক পাওয়া যাবেনা এটা কোন কথা হলো? তারা (বাংলা একাডেমি) যে বলছে মানসম্মত পাওয়া যায়নি সেটা নিয়ে আমি চ্যালেঞ্জ করবো।"

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও লেখক বিশ্বজিত ঘোষ, লেখা এবং সম্পাদিত মিলে ৫০টিরও বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে তার এবং ২০১১ সালে গবেষণা ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন। বিশ্বজিত ঘোষ মনে করেন, নাটকের ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পাবার মতো কাজ এবং ব্যক্তি দু'টোই আছে। তিনি মনে করেন, বাংলা একাডেমি যে পুরস্কার দেয় সেখানে মানদণ্ড হিসেবে নাটক লেখা এবং নাটকের বইকে হয়তো প্রাধান্য দেয়া হতে পারে। কিন্তু কেবল লিখিত বইকে মূল্যায়ন না করে নাটক মঞ্চায়নের বিষয়টিকে যদি বিবেচনায় নেয়া হয় তাহলে পুরস্কার পাবার মতো 'যথেষ্ঠ যোগ্য ব্যক্তি' বাংলাদেশে আছে বলে তিনি মনে করেন। অধ্যাপক ঘোষ বলছেন, নাটকের ক্ষেত্রে দু'টি দিক আছে। একটি হচ্ছে নাটক মঞ্চস্থ করা এবং অন্যটি হচ্ছে নাটকের বই লেখা। তিনি মনে করেন পুরস্কার দেবার ক্ষেত্রে এ দু'টো বিষয়কে একসাথে মূল্যায়ন করা উচিত।যারা নাটক লেখেন, তাদের কাছে নাটক প্রকাশের চাইতে নাটক মঞ্চায়নের দিকে মনোযোগ থাকে বেশি। এটাই হওয়া উচিত।" কিন্তু বিচারকমন্ডলী হয়তো ভাবতে পারেন যারা পুরস্কার পাবার জন্য মনোনীত হয়েছেন তাদের হয়তো যথেষ্ঠ প্রকাশনা নেই। বাংলাদেশে নাটকের বই প্রকাশ বেশ সীমিত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলা একাডেমি বলছে, কয়েকটি ধাপে পুরস্কারের জন্য ব্যক্তিদের বাছাই করা হয়। কর্মকর্তারা বলছেন, বিচারক হিসেবে যাদের রাখা হয় তাদের নাম প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়না। বাংলা একাডেমির পরিচালক শাহিদা খাতুন বলেন, "পুরস্কারের জন্য নাম বাছাই করতে বাংলা একাডেমি ফেলোদের নিয়ে তিন কমিটি কাজ করে । পুরষ্কারের জন্য নামগুলো সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র থেকে আসতে হয়। না আসলে আমাদের কিছু করার থাকেনা"।

ই৭/আরএস