Monday, 24 July 2017
ইভেন্ট হেডলাইন
×

Warning

Error loading component: com_languages, Component not found.

নরসিংদীর চরাঞ্চলে এমডিএস’র দাইঘরঃ স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে কয়েক হাজার জনগন

0
0
0
s2smodern
powered by social2s

নরসিংদীর দুর্ঘম চরাঞ্চলে দুঃস্ত নারীদের স্বাস্থ্য সেবায় কাজ করে যাচ্ছে স্থানীয় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা মাদারস্ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (এমডিএস)। আর এই সুবিধার আওতায় এসেছে স্বাস্থ্য সুবিধা বঞ্চিত কয়েক হাজার নর-নারী।

চরাঞ্চলে পাইলট প্রকল্প হিসেবে নরসিংদী সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়নের একটি দাইঘর স্থাপন করা হয়েছে। দাইদের সামাজিক স্বীকৃতি ও সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যে দক্ষ কর্মী বাহিনী হিসেবে দরিদ্র পরিবারের প্রসূতি এবং নবজাতকের মায়েদের নিরাপদ স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করাই এই প্রকল্পের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন এমডিএস এর নির্বাহী পরিচালক ফাহিমা খানম।

কানাডিয়ান সিডা ও উবিনীগ’র সহায়তায় এমডিএস প্রাথমিক পর্যায়ে নরসিংদী সদর উপজেলার চরাঞ্চলীয় নজরপুর ইউনিয়নের কালাইগুবিন্দপুর গ্রামে স্বাস্থ্য সেবা ও পরামর্শ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় একটি “দাইঘর” নির্মানের মাধ্যমে স্বাস্থসেবাদান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

নরসিংদী সদর উপজেলার চরাঞ্চলখ্যাত নজরপুর ইউনিয়নের ১১টি গ্রামের জনগনকে এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেবা প্রদান করার লক্ষ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে এই দাইঘর।

ম্যাটার্নাল নিউবর্ণ এন্ড চাইল্ড হেলথ কেয়ার (এমএনসিএইচ) প্রকল্পাধীন “এমডিএস” পরিচালিত স্বাস্থ্য সেবা ও পরামর্শ কেন্দ্র দাইঘরের সার্বিক তত্ত্বাধায়নের দায়িত্ব পালন করে আসছেন প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী রাজিয়া বেগম।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে কেন্দ্র তত্ত্বাবধায়ক রাজিয়া বেগম জানান, ২বছর যাবত পরিচালিত দাইঘরের মাধ্যমে আমরা প্রশিক্ষনের মাধ্যমে দক্ষতা-অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করে সামাজিক মর্যাদায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছি। দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দরিদ্র অসহায় পরিবারের প্রসুতি ও দুগ্ধদায়ী মা এবং শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষায় নিরাপদ প্রসব সহ জন্ম-মৃত্যুর হার হ্রাস নিশ্চিত করতে পেরেছি।

স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ব হিসেবে শিশুদের ওজন পরীক্ষার মাধ্যমে অ-পুষ্টির শিকার শিশুদের পরিমাপ ও পুষ্টিহীনতা চি‎িহ্নত করা, মা ও শিশুর পুষ্টিহীনতা দূরীকরনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ, প্রসূতি ও নবজাতকের মা এবং শিশুদের সহজলভ্য খাবারের পদ্ধতিসহ প্রক্রিয়া সমূহ সর্ম্পকে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এই প্রকল্পের লক্ষ্য।

মা ও শিশুর বড় ধরনের জটিল রোগের উপক্রম বুঝতে পারলে তাৎক্ষনিক আমাদের দাইঘরের নিজস্ব ভ্যানগাড়ী দিয়ে স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিক বা নিকটতম সরকারী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বিনা ভাড়ায় পরিবহন সাপেক্ষে মানসম্মত স্বাস্থ্য সেবা পেতে সহায়তা করা হয়ে থাকে। দাইঘর স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে নিয়মিত মা-সমাবেশ, অভিভাবক সমাবেশ, দাইঘর সেন্টার পরিচালনা পরিষদের সভা, এমডিএস’র ষ্টাফসভা, ধাত্রীমাতাদের সমন্বয় সভা, স্বাস্থ্য দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষ্যে নানামুখী সচেতনতামূলক কর্মসূচী পালন করে আসছে।

শুধু তাই নয় এই প্রকল্পের আওতায় নয়াকৃষি পদ্ধতিতে জমি চাষ, বিষমুক্ত সবজি চাষ, ধোয়াযুক্ত ও ধোয়ামুক্ত তামাকজাত দ্রব্য বন্ধের জন্য পরামর্শ, তামাক জাত দ্রব্য ব্যবহারের কুফল, যৌতুক, তালাক, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, পারিবারিক নির্যাতন ও সহিংসতা প্রতিরোধে সভা, ওঠান বৈঠক ইত্যাদি এবং সরকার কর্তৃক বিনামুল্যে জনগনকে যে সেবা দেওয়া হয় তা পাওয়ার জন্য বিভিন্ন সচেতনতা মূলক সভা ও পরামর্শ প্রদান করে থাকে।

এছাড়া চরাঞ্চলীয় এলাকায় পরিচালিত দাইঘর মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সেবা দানে কার্যকর সফলতা আনতে সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যতিরেকে সরকারী ও বে-সরকারী বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, পরিচালনা কমিটির স্থানীয় প্রতিনিধি, আর্থিক সহায়তা দানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ বিভিন্ন সময় পরিদর্শন পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করে আসছে।

বর্তমানে দাইঘরের আওতায় ৩১ জন অভিজ্ঞ ধাত্রীমাতা মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত থেকে নিরলস ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

এলাকাবাসী জানান, এনজিও পরিচালিত দাইঘর আমাদের এলাকায় স্থাপিত হওয়ায় দরিদ্র অসহায় পরিবারের মা ও শিশুদের আর্থিক অভাবে চিকিৎসার জন্য আর জেলা শহরে যেতে হয়না।

শুধু তাইনয় এই প্রকল্পের আওতায় একজন স্থায়ী, ১৯ জন খন্ডকালী দাই এর মাধ্যমে এপর্যন্ত ৫ শত ৯৪জন গর্ভবতী মাকে সেবা এবং ৫ হাজার ৭ শত ৩১ জন নবজাতক শিশু, ০ থেকে ৫ বছরের ৪ হাজার ২ শত ২ জন শিশু, এবং ১ হাজার ১ শত ৭২ জন কিশোরীকে সেবা দেওয়া হয়েছে।

এখন চরাঞ্চলে দক্ষ অভিজ্ঞ দাইঘর ছাড়া প্রসূতি মায়েদের গর্ভপাত করানো হয় না। বাংলাদেশ সরকারের সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবাকে নিশ্চিত করা, মা ও শিশু মৃত্যুর হার কমানো, শুন্য থেকে ৪৫ বছর বয়সি সকল নারী, শিশু ও কিশোরীদের নিয়ে এ প্রকল্পের মাধ্যমে স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। শিশুদের পাশা-পাশি কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে পরামর্শসহ তাদের বিভিন্ন রোগ চি‎হ্নিত করে সরকারী হাসপাতালে অথবা স্বাস্থ্য ক্লিনিকে প্রেরণ করা হয়। এলাকার সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ জানান, নরসিংদীর চরাঞ্চলীয় এলাকায় উক্ত প্রকল্পটি নির্ধারিত মেয়াদে না হয়ে মানুষকে স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করার জন্য এই প্রকল্পটি স্থায়ীভাবে নরসিংদীর সবকয়টি চরাঞ্চলীয় ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে পরিচালনা করা প্রয়োজন।। তাই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য চরাঞ্চলের প্রতিটি এলাকায় এ পরামর্শ কেন্দ্র (দাইঘর) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সরকারের পাশাপাশি এনজিওদের স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়ন বিশেষভাবে অপরিহার্য।

-শরীফ ইকবাল রাসেল