Monday, 24 July 2017
ইভেন্ট হেডলাইন
×

Warning

Error loading component: com_languages, Component not found.

দম্পতি দিবস ও দম্পতি সোসাইটি

0
0
0
s2smodern
powered by social2s

দম্পতি দিবস এর ভাবনার পটভূমি খুবই সাদামাটা

মানবাধিকারের এই যুগে সম্ভবত একটি মাত্র অধিকার আছে যার প্রয়োগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর।

যে অধিকারের প্রয়োগের সঠিকতা ও বেঠিকতা চিরবিতর্কিত আর তা হচ্ছে বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার।

দম্পতি দিবস, দম্পতি সোসাইটি ও দম্পতি মেলা এর উদ্ভব এমনি এক বিবাহ বিচ্ছেদ পরবর্তী আলোচনা ও উদ্বেগের গর্ভ হতে।

একে অপরকে ভালোবেসে বিয়ে করা এক দম্পতি প্রায় দশ বছর সংসার করার পর যখন তাদের বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকারটি প্রয়োগ করে।

স্বল্পদিনের ব্যবধানে আবার উভয়েই নতুন জীবনসাথী বেছে নিয়ে নতুন সংসার শুরু করে তখন তাদের প্রথম দাম্পত্যের ফসল দু’টি সন্তান পিতা-মাতার স্নেহসহ অনেক অধিকার হতে বঞ্চিত হয়ে বেড়ে উঠতে থাকে।

এক দম্পতির বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার কর্তৃক দু’টি সন্তানের শিশু অধিকারের বিঘ্নতা ও বঞ্চনা উজ্জল আহমেদ (দম্পতি সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক) ও রহীম সর্‌ওয়ার (দম্পতি সোসাইটির অর্থবিষয়ক সম্পাদক) দু’জনকে দারুনভাবে নাড়া দিল।

বিষয়টি নিয়ে কিছু করার এক সামাজিক দায়বদ্ধতা তারা অনুভব করলো।

তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালে নভেম্বর মাসে তারা বিষয়টি আলোচনা করলো আরজুমান্দ আরা বকুল (দম্পতি সোসাইটির সভাপতি) ও রেজাউল করিম হিটলু (দম্পতি সোসাইটির সহ-সভাপতি) এর সাথে।

প্রথম দিনের আলোচনায় সবার সমউদ্বেগ কিছু সমচিন্তাকে সমর্থন করল।

আলোচনা হতে উঠে আসলো যে, পৃথিবীর মানুষকে নানা বিষয়ে সচেতন করার জন্য নানা দিবস আছে কিন্তু দম্পতিদের জন্য কোন দিবস নেই। অথচ দম্পতিরা হচ্ছে পৃথিবীর সকল সম্পর্কের গোড়া।

যদি দাম্পত্য সম্পর্ককে বাদ দেয়া হয় তবে পৃথিবীতে বাবা-মা, ভাই-বোন, চাচা, মামা, খালা, ফুপু, দাদা-দাদি, নানা-নানি এই নানাবিধ বন্ধন ও সম্পর্ক আর থাকেনা।

তাই প্রথম দম্পতি দিবস হিসেবে একটি দিন ঠিক করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল। সেই দিনটি খুজে বের করার দায়িত্ব দেয়া হলো রহীম সর্‌ওয়ারকে।

তিনি অনেক ভেবে চিন্তে ১৫ মার্চকে দম্পতি দিবস হিসেবে গ্রহণ এর জন্য কয়েকটি যুক্তি উপস্থাপন করলেন-

প্রথম যুক্তি: ১৫ মার্চ হচ্ছে বাংলাদেশ মতে চৈত্রের প্রথম ও ভারতীয় মতে ফাল্গুনের শেষ দিন। বাংলায় ফাল্গুন ও চৈত্রের মিলনে বসন্ত কাল। যৌবন মানব জীবনের বসন্ত কাল। মানব জীবনের বসন্ত যৌবন কালেই মানুষ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে দম্পতিরূপে পরিবার গঠন করে। তাই ফাল্গুন ও চৈত্রের মিলন/বিবাহ বিন্দুকে এই দিবস হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

দ্বিতীয় যুক্তি: মার্চ মাসকে যদি আমরা নারী ও পুরুষ দুটি পক্ষে (১৫ দিন) বিভক্ত করি তবে ১৫ মার্চ এই মাসেরই দু’টি পক্ষের বিবাহ/মিলন বিন্দু।

তৃতীয় যুক্তি: মার্চ সারা বিশ্বেই বসন্তকাল তাই এটি বিশ্ব দম্পতি দিবস হিসেবেও গৃহিত হতে পারবে।

চতুর্থ যুক্তি: সূর্য তার কক্ষপথে একটি সম্পূর্ণ ভ্রমণ শেষ করে ৫২ সপ্তাহে, ১৫ মার্চ সূর্য পরিক্রমণের পূর্ণতাপ্রাপ্ত সপ্তাহ ৫২তম সপ্তাহে পড়ে, দাম্পত্য জীবন মানুষের জীবনকে পরিপূর্ণ করে, দাম্পত্য সাধনার চরম বিন্দুতে মানুষ পূর্ণতা লাভ করে।

যুক্তিগুলো প্রাথমিক উদ্যোক্তা সকলের মনপুত হওয়ায় এটিকে দম্পতি দিবস হিসেবে চালু ও প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এবার প্রশ্ন জাগে, আমরা ব্যক্তি হিসেবে কি দম্পতি দিবস চালুর উদ্যোগ নিতে পারি?

বিশ্বে যাদের ব্যাপক পরিচিতি আছে তাদের কেউ ব্যক্তি হিসেবে এরকম উদ্যোগ হয়ত নিতে পারে কিন্তু আমরা কেউই তেমন কোন পরিচিত লাভ করিনি।

ভাবনায় আসে একটি সংগঠন গড়ে তোলার, যার ব্যানারে আমরা এ দিবস চালু ও প্রতিষ্ঠা করতে পারি।

এবারও আমরা লক্ষ্য করলাম পৃথীবির আদি সংগঠন পরিবার এর কেন্দ্রবিন্দু দম্পতিদের কোন সামাজিক সংগঠন নেই।

সকলে মিলে ‘দম্পতি সোসাইটি’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলো এবং আরজুমান্দ আরা বকুলকে আহবায়ক, উজ্জল আহম্মেদ কে যুগ্ম আহবায়ক এবং রেজাউল করিম হিটলু ও  রহীম সর্‌ওয়ার সহ বেশ কিছু ব্যক্তিকে সদস্য করে ‘দম্পতি সোসাইটি’ গঠন করা হলো।

এবং সংগঠনকে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য প্রাথমিক উদ্যোগ হিসেবে ফেসবুকে দম্পতি সোসাইটির পেজ খোলা হলো (www.facebook.com/DampatiSociety)।

দম্পতি দিবস ঠিক করা হলো, দম্পতিদের জন্য সংগঠন ‘দম্পতি সোসাইটি’ গঠন করা হলো।

এবার প্রশ্ন দেখা দিলো কিভাবে উদযাপন করা হবে দম্পতি দিবস?

আলোচনায় সকলে একমত হলো দম্পতি দিবস উপলক্ষে দম্পতি মেলা’র আয়োজন করা যায়।

অধ্যাপক আব্দুল্লাহ্ আবু সায়ীদ, শিল্পী মোস্তফা মনোয়ারসহ বেশ কিছু গুণী ও চিন্তাশীল ব্যক্তিদের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলে তারাও উৎসাহ দিল।

২০১৫ সালে ১৫ মার্চ রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে দম্পতি সোসাইটির আত্মপ্রকাশ।

১ম দম্পতি মেলা অনুষ্ঠিত এবং বিশ্বে প্রথম দম্পতি দিবস পালিত হলো।

প্রথম দম্পতি মেলার উদ্বোধন করেছিলেন অধ্যাপক আব্দুল্লাহ্ আবু সায়ীদ ।

এবং এই মেলায় ৫০ বছর পূর্ণকারি আট দম্পতিকে সোসাইটির পক্ষ হতে দেয়া হয়েছিলো সম্মাননা।

সম্মাননা প্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন, আব্দুল্লাহ্ আবু সায়ীদ ও রওশন আরা সায়ীদ, মোস্তফা মনোয়ার ও মেরী মনোয়ার।

নৃত্য শিল্পী লায়লা হাসান ও অভিনেতা হাসান ইমাম।

কবি ও প্রাবন্ধিক হায়াত মামুদ ও ফিরোজা মামুদ।

জিএম শামসুল হুদা ও রোকসানা হুদা দম্পতি।

মেলায় দম্পতিদের মালা বদল, ফটোসেশন ও দাম্পত্য অভিজ্ঞতা শেয়ারসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল।

মেলা উপলক্ষে একটি স্যুভেনির ম্যাগাজিনও প্রকাশ করা হয়েছিলো।

স্বল্প পরিসরের প্রথম এই আয়োজনের অভাবনীয় সাড়া উদ্যোক্তাদের বিপুল উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা যোগায়।

মেলার পর দম্পতি সোসাইটির কার্যক্রমে অন্তর্ভূক্ত হয়- দাম্পত্য সঙ্কটাপন্ন দম্পতিদের জন্য কাউন্সেলিং,

ফেসবুকে নিয়মিত দাম্পত্য টিপস্ প্রদান, দম্পতিদের বিবাহ বার্ষিকীতে শুভেচ্ছা প্রদান ইত্যাদি।

২০১৫ সালের ১ দিনের আয়োজনে ব্যাপক সাড়া এবং আয়োজন পরবর্তী নানা জনের নানা পরামর্শ ও উৎসাহ বিশেষ করে ১দিনের আয়োজন যথেষ্ট নয় এরকম অনুভুতির ফলে ২০১৬ সালে দম্পতি সোসাইটি আয়োজন করলো ১১-১৫ মার্চ,  ৫ দিন ব্যাপী দম্পতি মেলা।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতিয় চিত্রশালা প্লাজায় অনুষ্ঠিত হলো দ্বিতীয় দম্পতি মেলা।

মেলার উদ্বোধন করেন ৫৪ বছরের সফল দাম্পত্য জীবন অতিবাহিতকারি বাংলাদেশের কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাক।

মেলায় ছিল নানা পণ্য ও খাবারের ষ্টল এছাড়া ছিল পাগড়ি, ওড়না পরে বাংলাদেশের ঐতিহ্য পালকির সামনে বর-বধূ বেশে ফটোসেশন।

এই আয়োজনটি ছিল সবার জন্য আগ্রহের ও উপভোগের। মেলা চলেছে প্রতিদিন সকাল ১১টা হতে রাত ৯টা।

মঞ্চে ছিলো নানা বয়সী ও নানা পেশার দম্পতিদের নিয়ে দাম্পত্য জীবনের অভিজ্ঞতা ও অনুভুতি শেয়ার ও আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুরষ্কারসহ কুইজ প্রতিযোগিতা ইত্যাদি।

১৫ মার্চ দম্পতি দিবস পালনের মধ্য দিয়ে আয়োজনের পর্দা নামানো হয়।

জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য বিশ্বজনীন একটি গান রয়েছে কিন্তু বিবাহ বার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য কোন গান নেই।

তাই দম্পতি সোসাইটি রচিত দু’লাইনের একটি গান সকলে মিলে গাওয়া হয়।

গানটি হচ্ছে- “শুভ হোক, শুভ হোক, শুভ হোক আগামী, হোক অটুট এই বন্ধন হ্যাপি এ্যানিভার্সারি” এবং গানটি পৃথিবীর সকল দম্পতির জন্য উপহার হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

সমাপনী দিনে সমাপক দম্পতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহা-পরিচালক লিয়াকত আলী লাকী এবং তার স্ত্রী কৃষ্টি হেফাজ।

২য় দম্পতি মেলায় ৫০ এর অধিক দাম্পত্য জীবন পূর্ণকারি ১০ দম্পতিকে সম্মাননা জানানো হয়।

এদের মধ্য ৭০ বছর দাম্পত্যজীবন পূর্ণকারি দম্পতিও ছিল।

মেলায় প্রতিদিনের অলংকারিক দম্পতি ও অতিথিদের মধ্যে ছিলেন, ছুটির ঘন্টা খ্যাত চিত্র পরিচালক আজিজুর রহমান ও তার স্ত্রী।

আনবিক শক্তি কমিশনের সাবেক মহাপরিচালক বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. ইউনুস আখন্দ ও তার স্ত্রী।

বিশিষ্ট ভাস্কর দম্পতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার অধ্যাপক হামিদুজ্জামান ও তার স্ত্রী আইভি জামান।

বাংলায় বিদেশী নাটক অনুবাদের পথিকৃত নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুস সেলিম।

বিশিষ্ট সুরকার আজাদ রহমান, বিশিষ্ট গীতিকার শহীদুল্লাহ ফরায়েজী, ক্যামেরার কবি খ্যাত নাসির আলী মামুনসহ নানা মনীষি।

তৃতীয় দম্পতি মেলা হওয়ার কথা ছিলো ২০১৭ সালে, তৃতীয় দম্পতি দিবস পালনের জন্য।

কিন্তু এবার সীমাবদ্ধতার যে জালে আটকা পড়লো দম্পতি সোসাইটি তা শেষ পর্যন্ত ছিন্ন করা সম্ভব হলো না।

তৃতীয় দম্পতি দিবসটি তাই দম্পতি মেলা ছাড়ই পালন করতে হবে। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য “দাম্পত্য সাধনায় সুখী সমাজ গড়ি”।

কিভাবে পালন করা যেতে পারে এবারের দম্পতি দিবস?

এ বিষয়ে দম্পতি সোসাইটির পরামর্শ নিম্নোক্ত বিষয় গুলো করা যেতে পারে।

আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রিয় দম্পতিদের ফোনে অথবা সামাজিক মাধ্যমে দম্পতি দিবসের শুভেচ্ছা প্রদান।

• সম্ভব হলে নিকটবৃত্তে (close circle) আলোচনার আয়োজন

• দম্পতিরা নিজেদের মধ্যে উপহার বিনিময়

• নিজেদের দাম্পত্য জীবনের বিশেষ সুখময় স্মৃতি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার।

দম্পতিরা এগুলো অথবা এছাড়াও অন্য কোনভাবে দম্পতি দিবস পালন করুন না কেন সে খবর/তথ্য/কাহিনী দম্পতি সোসাইটির ফেসবুক গ্রুপ অথবা পেজে শেয়ার করে দম্পতি সোসাইটির আন্দোলনকে বেগমান করার জন্য দম্পতি সোসাইটি উদাত্ত আহবান জানাচ্ছে।

– রহীম সর্‌ওয়ার



একুশে গ্রন্থমেলা ও বিশ্ব সাহিত্য সম্মেলনের উদ্বোধন

0
0
0
s2smodern
powered by social2s

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গন ও সোহরাওয়ার্দী প্রাঙ্গনে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হলো মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলা। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গনে ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিভাবে মাসব্যাপী অমর একুশের গ্রন্থ মেলার উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনী বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে দূরে থাকতে সাহিত্য চর্চা ও বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে সবার প্রতি আহ্বান জানান। এসময় তিনি এও বলেন, শুধু আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে নয়, সাহিত্য-সংস্কৃতিতেও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, বাঙালীর যত অর্জন তার সবই হয়েছে রক্তের বিনিময়ে। একুশের বই মেলা এখন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পেয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী নিজের বই পড়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।বাংলাদেশ আজ বিশ্ব দরবারে আত্ম-মর্যাদার আসন পেয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এ অবস্থা ধরে রাখতে কাজ করার জন্য সবার প্রতি আহবান জানান।

মাসব্যাপী বইমেলার পাশাপাশি চারদিন ব্যাপী বিশ্ব সাহিত্য সম্মেলনেরও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দেশী-বিদেশী কবি সাহিত্যিকরা। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পরিবেশন কর হয় একুশের গান। অনুষ্ঠান উপলক্ষে আমন্ত্রিত দেশী বিদেশী সাহিত্যিকদের আলোচনার পর বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধন শেষে কয়েকটি স্টল ঘুরেও দেখেন তিনি।

অনুষ্ঠানে এর আগে বিজয়ীদর হাতে ‘বাংলা একাডেমী সাহিত্য’ পুরুস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এবছর এই পুরুস্কার যারা পেলেন তারা হলেন--কবিতায় -আবু হাসান শাহারিয়ার, সাহিত্যে - শহীদুজ্জামান, প্রবন্ধ সাহিত্যে - মোরশেদ সফিউল হাসান, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সাহিত্যে- ডক্টর এম হাসান, আত্মজীবনী ও স্মৃতি কথায় - নুরজাহান ঘোষ, শিশু সাহিত্যে-রাশেদ রউফ ও অনুবাদে নিয়াজ জামান।

বাংলাদেশের সাহিত্যাঙ্গনে 'বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার' সবচেয়ে সম্মানজনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৬০ সাল থেকে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে বাংলা একাডেমি।কবিতা, কথা সাহিত্য, অনুবাদ ও গবেষণাসহ ২০১৬ সালে সাতটি ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার দেয়া হয়।

কিন্তু নাটক এবং বিজ্ঞান বিষয়ক লেখালেখির ক্ষেত্রে কাউকে পুরস্কার দেয়া হয়নি। বাংলা একাডেমি বলছে এ দু'টি ক্ষেত্রে পুরস্কার দেবার জন্য যথেষ্ট মানসম্মত লেখা পাওয়া যায়নি।

গত ১০ বছর ধরেই বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে নাটকের ক্ষেত্রে পুরস্কার প্রদানের বিষয়টি অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। যদিও ২০১৫ সালে একজনকে সে ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেয়া হয়েছে।

নাটকের ক্ষেত্রে কোন পুরস্কার না দেয়ায় এ নিয়ে স্বভাবতই হতাশ এবং ক্ষুব্ধ নাট্যজগতের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। কিন্তু নাটকের ক্ষেত্রে পুরস্কার পাওয়ার মতো কাজ না থাকার যে যুক্তি দেখানো হচ্ছে সেটি কতটা গ্রহণযোগ্য?

বাংলাদেশের একজন সুপরিচিত নাট্য ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশিদ মনে করেন নাটকের প্রতি অবহেলার কারণেই বাংলা একাডেমির পুরস্কারে নাটক বিষয়টি অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। মামুনুর রশিদ বলেন, "নাটকের ক্ষেত্রে পুরস্কার দেবার মতো লোক পাওয়া যাবেনা এটা কোন কথা হলো? তারা (বাংলা একাডেমি) যে বলছে মানসম্মত পাওয়া যায়নি সেটা নিয়ে আমি চ্যালেঞ্জ করবো।"

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও লেখক বিশ্বজিত ঘোষ, লেখা এবং সম্পাদিত মিলে ৫০টিরও বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে তার এবং ২০১১ সালে গবেষণা ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন। বিশ্বজিত ঘোষ মনে করেন, নাটকের ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পাবার মতো কাজ এবং ব্যক্তি দু'টোই আছে। তিনি মনে করেন, বাংলা একাডেমি যে পুরস্কার দেয় সেখানে মানদণ্ড হিসেবে নাটক লেখা এবং নাটকের বইকে হয়তো প্রাধান্য দেয়া হতে পারে। কিন্তু কেবল লিখিত বইকে মূল্যায়ন না করে নাটক মঞ্চায়নের বিষয়টিকে যদি বিবেচনায় নেয়া হয় তাহলে পুরস্কার পাবার মতো 'যথেষ্ঠ যোগ্য ব্যক্তি' বাংলাদেশে আছে বলে তিনি মনে করেন। অধ্যাপক ঘোষ বলছেন, নাটকের ক্ষেত্রে দু'টি দিক আছে। একটি হচ্ছে নাটক মঞ্চস্থ করা এবং অন্যটি হচ্ছে নাটকের বই লেখা। তিনি মনে করেন পুরস্কার দেবার ক্ষেত্রে এ দু'টো বিষয়কে একসাথে মূল্যায়ন করা উচিত।যারা নাটক লেখেন, তাদের কাছে নাটক প্রকাশের চাইতে নাটক মঞ্চায়নের দিকে মনোযোগ থাকে বেশি। এটাই হওয়া উচিত।" কিন্তু বিচারকমন্ডলী হয়তো ভাবতে পারেন যারা পুরস্কার পাবার জন্য মনোনীত হয়েছেন তাদের হয়তো যথেষ্ঠ প্রকাশনা নেই। বাংলাদেশে নাটকের বই প্রকাশ বেশ সীমিত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলা একাডেমি বলছে, কয়েকটি ধাপে পুরস্কারের জন্য ব্যক্তিদের বাছাই করা হয়। কর্মকর্তারা বলছেন, বিচারক হিসেবে যাদের রাখা হয় তাদের নাম প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়না। বাংলা একাডেমির পরিচালক শাহিদা খাতুন বলেন, "পুরস্কারের জন্য নাম বাছাই করতে বাংলা একাডেমি ফেলোদের নিয়ে তিন কমিটি কাজ করে । পুরষ্কারের জন্য নামগুলো সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র থেকে আসতে হয়। না আসলে আমাদের কিছু করার থাকেনা"।

ই৭/আরএস

নরসিংদীর চরাঞ্চলে এমডিএস’র দাইঘরঃ স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে কয়েক হাজার জনগন

0
0
0
s2smodern
powered by social2s

নরসিংদীর দুর্ঘম চরাঞ্চলে দুঃস্ত নারীদের স্বাস্থ্য সেবায় কাজ করে যাচ্ছে স্থানীয় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা মাদারস্ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (এমডিএস)। আর এই সুবিধার আওতায় এসেছে স্বাস্থ্য সুবিধা বঞ্চিত কয়েক হাজার নর-নারী।

চরাঞ্চলে পাইলট প্রকল্প হিসেবে নরসিংদী সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়নের একটি দাইঘর স্থাপন করা হয়েছে। দাইদের সামাজিক স্বীকৃতি ও সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যে দক্ষ কর্মী বাহিনী হিসেবে দরিদ্র পরিবারের প্রসূতি এবং নবজাতকের মায়েদের নিরাপদ স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করাই এই প্রকল্পের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন এমডিএস এর নির্বাহী পরিচালক ফাহিমা খানম।