Monday, 24 July 2017
ইভেন্ট হেডলাইন
×

Warning

Error loading component: com_languages, Component not found.

বলিভিয়ায় মে মাসে শুরু নারী মুষ্টিযোদ্ধাদের টিঙ্কু উৎসব

0
0
0
s2smodern
powered by social2s

প্রতিবছর মে মাসের শুরুতে বলিভিয়ার ছোট্টো এক শহর জুরে শুরু হয় মারামারির উৎসব। এমন এক উৎসব যেখানে মারামারিই হলো প্রধান অনুষঙ্গ এবং প্রতিবছর একজন দুজনের মৃত্যুও হয় এই উৎসবকে কেন্দ্র করে। যদিও উৎসব শেষ হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই আবার সবকিছু সাধারণ হয়ে যায়। বলিভিয়ার বহু প্রাচীণ এই আয়োজনটিকেই বলা হয় টিঙ্কু উৎসব।

একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে পৃথিবীতে শুধুমাত্র এই একটিই উৎসব যেখানে মানুষ মৃত্যু এক স্বাভাবিক ঘটনা। হাতাহাতি আর পাথর নিক্ষেপ করে এক গোত্রের মানুষ আরেক গোত্রের মানুষকে ঘায়েল করার পায়তারা চলে সারাক্ষণ। মূলত বলিভিয়ার এই পাহাড়বেষ্টিত অঞ্চলের প্রধান দুই গোষ্ঠি আয়মারা এবং

কুয়েচুয়ার মধ্যেই এই উৎসবটি পালিত হয়। তাদের ভাষ্যমতে, মানুষ সৃষ্টির শুরুর কাল থেকেই এই উৎসব চলে আসছে। 

উৎসবের শুরুতে সকলে একত্রে বসে প্রচুর পরিমানে মদ পান করে। মদ খাওয়া শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় নৃত্য ও সঙ্গীত পরিবেশন। বলিভিয়ার পাহাড়ি শহর মাচা এবং পতোসিতে পর্যায়ক্রমে এই উৎসবটি হয়ে থাকে। বিশিষ্ট নৃতাত্ত্বিক হেনরি স্টোবার্টের মতে, যারা এই উৎসবে অংশগ্রহন করেন তারা কিন্তু আসলে অতটা ভয়ঙ্কর নয়। কিন্তু উৎসবের ওই দিনটিতে তারা যেন হাজার বছরের পুরনো সকল শত্রুতাকে জড়ো করে লড়াই করতে নামে। অথচ উৎসব শেষে সকলকেই আবার একত্রে আনন্দ ফুর্তি করতে দেখা যায়।

ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের কাছে বলিভিয়ার এই উৎসবকে নিছক ব্যক্তিগত লড়াইয়ের ময়দান মনে হতেই পারে। কিন্তু ঐতিহ্যগতভাবে এই লড়াই হয় মূলত এক প্রাচীন দেবীর প্রতি সম্মান জানাতে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে এধরণের আত্মত্যাগ বা বলি নির্ভর সাংস্কৃতিক উৎসব চালু ছিল এবং আছে। ভারতবর্ষে আগে উৎসবের মধ্যে নরবলি দেয়ার প্রথাও ছিল। যদিও বর্তমানে সেই প্রথা আইন করে বিলুপ্ত করা হয়েছে। তেমনি বলিভিয়ানদের কাছে এক গ্রামের সঙ্গে আরেক গ্রামের এই লড়াইকে দেখা হয় সম্মানের চোখে। তারা নিজেদের সৃষ্ট লড়াইকে নিজেদের মতো করেই বন্ধ করতে চান, যাতে তাদের মধ্যকার লড়াই দীর্ঘমেয়াদে ছড়িয়ে যেতে না পারে।

যে গ্রামগুলোর মধ্যে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়, তাদের মধ্যে উৎসব শুরুর আগেই কিছু বিষয়ে বোঝাপড়া হয়ে যায়। কে কার সঙ্গে লড়াই করবে বা কোন স্থানেই হবে এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব এসবই নির্দিষ্ট করা থাকে আগে। শুধু তাই নয়, স্থানীয় পুলিশ বাহিনীকেও খবর দিয়ে রাখা হয় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সামলানোর জন্য। যদিও এখন পর্যন্ত এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, যেখানে পুলিশের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়।

উৎসবের একটি বিশেষ মুহূর্ত হলো দুই গ্রামের নারী সদস্যদের মধ্যকার লড়াই। বিশেষ করে দুই গোত্রের প্রধানদের স্ত্রীদের মধ্যে এই লড়াই অনুষ্ঠিত হয়। নিয়ম অনুযায়ী, যে গোত্রের নারী লড়াইয়ে জিতে যায় তারই অগ্রাধিকার থাকে আগামী বছরের উৎসবের নেতৃত্ব দেবার।

(ই৭/সার/আহ)